export-india-vs-bangladesh
Technology

আপনার ওয়েবসাইট ইন্টারন্যাশনাল বায়ার কে কি বার্তা দিচ্ছে ?

Author

thirdbracket-avatar

Date Published

ধরুন আপনি নিউইয়র্কে বসে আছেন। আপনার একটা ফ্যাশন ব্র্যান্ড আছে। সাস্টেইনেবল প্যাকেজিং এর জন্য বাল্ক জুট ব্যাগ দরকার। Google এ সার্চ করলেন। একটা বাংলাদেশি সাপ্লায়ারের ওয়েবসাইটে ক্লিক করলেন।


ওয়েবসাইট খুলতে লাগল ৮ সেকেন্ড। তারপর যা দেখলেন সেটা হলো, এলোমেলো লেআউট, যেকোনো জায়গা থেকে নেওয়া স্টক ফটো, খুবই কটকটা একটা লোগো, মোবাইলে সাইট ভেঙে যাচ্ছে। কন্ট্যাক্ট করতে গেলেন, একটা ফর্মে ১৫টা জিনিস লিখতে হচ্ছে। ট্রাস্টপাইলটের মতো কোনো অথেন্টিক প্রভাইডারের ভেরিফাইড রিভিউ নেই। কোনো ভেরিফাইড কোম্পানি প্রোফাইল নেই।


মনে একটাই প্রশ্ন আসল , এই কোম্পানি কি আসলেই এক্সিস্ট করে?


ব্রাউজারে ব্যাক বাটন চাপলেন। এবার একটা ইন্ডিয়ান সাপ্লায়ারের ওয়েবসাইটে গেলেন। ২ সেকেন্ডে লোড হলো। প্রফেশনাল ডিজাইন। প্রফেশনাল লোগো। গুডফার্মসে ভেরিফাইড প্রোফাইল। ক্লাচে ২৭টা রিভিউ। ISO সার্টিফাইড। কন্টাক্ট ফর্মে ইমেইল ছাড়া আর কিছু টাইপ করা লাগলো না , সেকেন্ডের মধ্যে ওদের বিজনেস ইমেইল থেকে রেসপন্স।


এই গল্পটা প্রতিদিন হচ্ছে।


বাংলাদেশ পৃথিবীর এক নম্বর জুট এক্সপোর্টার, কোয়ালিটি এবং কোয়ান্টিটি দুই দিক থেকেই। আপনার প্রোডাক্ট ভালো। আপনার দাম কম্পিটিটিভ। কিন্তু বায়ার আপনাকে সেই সুযোগটাই দিচ্ছে না, কারণ আপনার ডিজিটাল উপস্থিতি সেই বিশ্বাসটা তৈরি করতে পারছে না।


এটা কোনো কাকতালীয় ঘটনা না। এটা একটা সিস্টেম, যেটা Indian এক্সপোর্টাররা বছরের পর বছর ধরে তৈরি করেছে। আর আমরা এখনো সেই জায়গায় পৌঁছাইনি। এই আর্টিকেলে আমরা দেখব কোন কোন জায়গায় এই বিশ্বাসের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে এবং কিভাবে সেটা সারানো সম্ভব।


-----


আন্তর্জাতিক বায়ারের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি হয় কিভাবে?


চায়নার কথা বলাই বাদ দিলাম। আলিবাবা, মেড ইন চায়না ওরা এক অন্য দুনিয়ায় আছে। সেই কম্পিটিশনে যাওয়ার দরকার নেই। কিন্তু বাকি দুনিয়ার সাথে আমরা কম্পিট করতে পারি। করা উচিতও।


সমস্যা হলো আন্তর্জাতিক বায়ার যখন কোনো সাপ্লায়ারের কথা প্রথমবার শোনে বা ওয়েবসাইটে আসে, তার মাথায় একটাই প্রশ্ন থাকে, এই কোম্পানি কি আসলেই বিশ্বাসযোগ্য? এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় আপনার কাছে মাত্র কয়েক সেকেন্ড আছে। সেই কয়েক সেকেন্ডে যদি আপনার ওয়েবসাইট তাকে কনভিন্স করতে না পারে, সে চলে যাবে। আর ফিরে আসবে না।


এই বিশ্বাস কথা দিয়ে তৈরি হয় না, তৈরি হয় দেখে।


ওয়েবসাইট কত দ্রুত লোড হলো। ডিজাইনটা প্রফেশনাল কিনা। লোগোটা সব জায়গায় কনসিস্টেন্ট কিনা। কোনো ভেরিফাইড রিভিউ আছে কিনা। গুগলে কোম্পানিটা এক্সিস্ট করে কিনা। কন্টাক্ট করা কতটা সহজ।


এই জিনিসগুলো যে সাপ্লায়ারের ওয়েবসাইটে আছে, বায়ার তাকে সিরিয়াস নেয়। যার নেই, সে যতই ভালো প্রোডাক্ট বানাক, বায়ার তাকে একটা ইমেইল করার ঝুঁকিও নিতে চায় না।


বাংলাদেশের বেশিরভাগ এক্সপোর্টারের ওয়েবসাইটে এই জিনিসগুলো নেই। এটাই আসল সমস্যা। আর এই সমস্যাটা সমাধানযোগ্য, যদি সঠিকভাবে অ্যাপ্রোচ করা হয়।


পরের সেকশনগুলোতে আমরা একটা একটা করে দেখব, কোথায় কোথায় এই বিশ্বাসের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে এবং কিভাবে সেটা ঠিক করা যায়।


-----


আপনার ওয়েবসাইট কি বায়ার আসার আগেই তাকে বিদায় দিচ্ছে?


Google এর রিসার্চ বলছে, একটা ওয়েবসাইট লোড হতে ৩ সেকেন্ডের বেশি লাগলে ৫৩% ভিজিটর চলে যায়। মোবাইলে এই সংখ্যাটা আরো বেশি। আর প্রতিটা সেকেন্ড দেরিতে ৭% কনভার্শন কমে যায়।


এখন একটু ভাবুন : আপনার ওয়েবসাইট কত সেকেন্ডে লোড হয়?


বাংলাদেশের বেশিরভাগ এক্সপোর্টারের ওয়েবসাইট শেয়ার্ড হোস্টিংয়ে আছে। শেয়ার্ড হোস্টিং মানে হলো একটা সার্ভারে আপনার ওয়েবসাইটের পাশাপাশি আরো ৫০০ থেকে ১০০০টা ওয়েবসাইট একসাথে চলছে। সবাই একই সার্ভারের রিসোর্স ভাগ করে নিচ্ছে। ফলে স্বাভাবিক সময়েই ওয়েবসাইট স্লো থাকে।


আর যখন আন্তর্জাতিক ট্রেড ফেয়ার বা বায়িং সিজন; যখন সবচেয়ে বেশি বায়ার আসার কথা, ঠিক তখনই সার্ভারের উপর চাপ বাড়ে এবং ওয়েবসাইট এতটাই স্লো হয়ে যায় যে খোলাই যায় না।


এর সমাধান হলো ডেডিকেটেড রিসোর্স। সহজ ভাষায়, আপনার ওয়েবসাইটের জন্য আলাদা করে নির্দিষ্ট পরিমাণ রিসোর্স বরাদ্দ থাকবে। অন্য কোনো ওয়েবসাইট সেটা ব্যবহার করতে পারবে না। এটা অনেকটা শেয়ার্ড অফিসের বদলে নিজের অফিস নেওয়ার মতো — যখন খুশি কাজ করুন, কেউ আপনার জায়গা দখল করবে না।


এর সাথে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো স্টোরেজের ধরন। সাধারণ হোস্টিংয়ে পুরনো ধরনের হার্ড ড্রাইভ ব্যবহার হয় — অনেকটা পুরনো ক্যাসেট প্লেয়ারের মতো, তথ্য খুঁজে বের করতে সময় লাগে। কিন্তু এনভিএমই এসএসডি স্টোরেজ সম্পূর্ণ আলাদা প্রযুক্তি। এটা পুরনো স্টোরেজের তুলনায় ১০ গুণ পর্যন্ত দ্রুত ডেটা প্রসেস করতে পারে। ফলে ওয়েবসাইটের প্রতিটা পেজ, প্রতিটা ইমেজ অনেক দ্রুত লোড হয়।


আরেকটা বিষয় হলো ওয়েব সার্ভারের ধরন। বাংলাদেশের বেশিরভাগ হোস্টিংয়ে অ্যাপাচি নামের পুরনো একটা সিস্টেম ব্যবহার হয় — অনেকটা পুরনো বাজারের ভিড়ের মধ্যে দিয়ে হেঁটে যাওয়ার মতো। লাইটস্পিড হলো সম্পূর্ণ আলাদা, একই পথে গাড়িতে করে যাওয়ার মতো — একই কাজ কিন্তু তিনগুণ দ্রুত।


এর সাথে ক্লাউডফ্লেয়ার সিডিএন যোগ হলে আপনার ওয়েবসাইটের কনটেন্ট পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের সার্ভার থেকে সার্ভ হয়। আমেরিকা থেকে কেউ ভিজিট করলে আমেরিকার কাছের সার্ভার থেকে লোড হয়, ইউরোপ থেকে কেউ ভিজিট করলে ইউরোপের কাছের সার্ভার থেকে। ফলে যেখান থেকেই বায়ার আসুক, ওয়েবসাইট সাথে সাথে খুলে যায়।


Google এর Lighthouse টুল দিয়ে যেকোনো ওয়েবসাইটের পারফরম্যান্স স্কোর চেক করা যায়। একটা প্রফেশনাল ওয়েবসাইটের স্কোর ৯০ এর উপরে থাকা উচিত। আপনার ওয়েবসাইটের স্কোর কত জানতে চাইলে এখনই pagespeed.web.dev এ গিয়ে চেক করুন।


বায়ার আপনার ওয়েবসাইটে আসার আগেই যদি চলে যায়, তাহলে বাকি সব কিছু আর কাজে আসে না। স্পিড এবং পারফরম্যান্স হলো সবকিছুর ভিত্তি।


-----


ব্র্যান্ডিং যখন কথার চেয়ে জোরে কথা বলে


একটা সহজ প্রশ্ন দিয়ে শুরু করা যাক।


দুইজন মানুষ আপনার সামনে এলো। একজন পরিপাটি পোশাকে, পরিষ্কার চুলে, হাতে একটা প্রফেশনাল বিজনেস কার্ড। আরেকজন এলোমেলো পোশাকে, একটা ছেঁড়া কাগজে হাতে লেখা ফোন নম্বর দিল। দুইজনই বলছে তারা একই কাজ করে। আপনি কাকে বিশ্বাস করবেন?


ওয়েবসাইটের ক্ষেত্রেও ঠিক এটাই হয়।


আন্তর্জাতিক বায়ার আপনার ওয়েবসাইটে ঢুকে প্রথম কয়েক সেকেন্ডেই সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয় -এই কোম্পানি কি প্রফেশনাল? এদের সাথে ব্যবসা করা কি নিরাপদ? এই সিদ্ধান্তটা কিন্তু আপনার প্রোডাক্ট দেখে হয় না। হয় আপনার ব্র্যান্ড দেখে।


ব্র্যান্ডিং মানে শুধু একটা লোগো বানানো না। ব্র্যান্ডিং হলো একটা সম্পূর্ণ ডিজাইন সিস্টেম , যেখানে আপনার কোম্পানির রং, ফন্ট, আইকন, স্পেসিং, ফটোগ্রাফি স্টাইল সব কিছু একটা নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলে। ওয়েবসাইটে যে রং, ইমেইলে সেই রং, ইনভয়েসে সেই রং, প্যাকেজিংয়ে সেই রং। সব জায়গায় একই পরিচয়।


এই কনসিস্টেন্সি বায়ারের মনে একটা বিশ্বাস তৈরি করে যেটা কোনো কথা দিয়ে তৈরি করা সম্ভব না।


এই কনসিস্টেন্সি শুধু ওয়েবসাইটে সীমাবদ্ধ না। আপনার ইমেইলও আপনার ব্র্যান্ডের একটা অংশ। আর এখানেই আসে BIMI স্ট্যান্ডার্ড লোগো, আপনি যখন কোনো ইমেইল পাঠান, সেই ইমেইলের পাশে আপনার কোম্পানির লোগো দেখা যায়। এটা শুধু সুন্দর দেখায় না, এটা প্রমাণ করে যে এই ইমেইলটা একটা ভেরিফাইড বিজনেস থেকে আসছে। স্প্যামে যাওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। বায়ার ইমেইল খোলার আগেই আপনার ব্র্যান্ড দেখতে পায়।


আরেকটা বিষয় হলো ইমেইল অথেন্টিকেশন রেকর্ড। SPF, DKIM এবং DMARC, এই তিনটা টেকনিক্যাল সেটআপ না থাকলে আপনার ইমেইল বায়ারের ইনবক্সে না গিয়ে সরাসরি স্প্যাম ফোল্ডারে চলে যায়। আপনি হয়তো জানেনই না যে আপনার পাঠানো ইমেইল বায়ার কখনো দেখেইনি। এই তিনটা রেকর্ড সঠিকভাবে সেটআপ করা থাকলে আপনার ইমেইল সবসময় ইনবক্সে পৌঁছাবে এবং বায়ারের কাছে আপনার কোম্পানি একটা ভেরিফাইড সোর্স হিসেবে পরিচিত হবে।


একটা ভালো লোগো, একটা সুচিন্তিত ডিজাইন সিস্টেম এবং সঠিক ইমেইল সেটআপ মিলিয়ে আপনার কোম্পানি বায়ারের কাছে যে বার্তা পাঠায় সেটা হলো , আমরা সিরিয়াস। আমরা প্রফেশনাল। আমাদের সাথে ব্যবসা করা নিরাপদ।


-----


গুগল এবং মেটার দুনিয়ায় আপনার কোম্পানি কি আদৌ আছে?


একটা কথা আছে , যেটা গুগলে নেই, সেটা দুনিয়ায় নেই।


আন্তর্জাতিক বায়ার কোনো সাপ্লায়ারের সাথে ডিল করার আগে সবসময় একটা কাজ করে, গুগলে সার্চ করে। শুধু ওয়েবসাইট দেখার জন্য না। দেখার জন্য যে এই কোম্পানি সম্পর্কে আর কী তথ্য পাওয়া যায়। রিভিউ আছে কিনা। গুগল ম্যাপে আছে কিনা। কোম্পানির অ্যাড্রেস ভেরিফাইড কিনা। অনলাইনে কোনো উপস্থিতি আছে কিনা।


এই তথ্যগুলো না পেলে বায়ারের মনে সন্দেহ তৈরি হয়। আর সন্দেহ মানেই ডিল হারানো।


গুগল বিজনেস প্রোফাইল


এটা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। কিন্তু এর গুরুত্ব অনেক বেশি। গুগল বিজনেস প্রোফাইল ভেরিফাইড থাকলে কেউ আপনার কোম্পানির নাম গুগলে সার্চ করলে ডান পাশে একটা সুন্দর প্যানেল দেখা যায় : কোম্পানির নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর, ওয়েবসাইট, কাজের সময়, রিভিউ সব কিছু এক জায়গায়। এটা দেখলে বায়ার বুঝতে পারে এই কোম্পানি রিয়েল এবং ভেরিফাইড।


গুগল সার্চ কনসোল


এটা হলো গুগলের সাথে আপনার ওয়েবসাইটের সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যম। Search Console সেটআপ না থাকলে গুগল আপনার ওয়েবসাইটের নতুন পেজগুলো সময়মতো খুঁজে পায় না। ফলে নতুন কনটেন্ট যোগ হলেও গুগলে দেখাতে অনেক দেরি হয়। Search Console সেটআপ থাকলে আপনি নিজেই গুগলকে বলে দিতে পারেন কোন পেজগুলো ইন্ডেক্স করতে হবে।


গুগল অ্যানালিটিক্স


আপনার ওয়েবসাইটে কোন দেশ থেকে কতজন আসছে, কোন পেজে বেশি সময় কাটাচ্ছে, কোথায় গিয়ে চলে যাচ্ছে, এই তথ্যগুলো না জানলে আপনি অন্ধের মতো ব্যবসা করছেন। Google Analytics এই তথ্যগুলো দেয়। এটা দিয়ে আপনি বুঝতে পারবেন আমেরিকান বায়াররা আপনার ওয়েবসাইটে আসছে কিনা, আসলে কতক্ষণ থাকছে এবং কোন পেজ দেখে চলে যাচ্ছে।


মেটা ইমেজ এবং স্ট্রাকচার্ড ডেটা


আপনার ওয়েবসাইটের লিংক যখন কেউ Facebook বা হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার করে তখন একটা প্রিভিউ দেখা যায়। সঠিক মেটা ইমেজ না থাকলে ফেসবুক নিজে থেকে যেকোনো একটা ছবি তুলে নেয় — যেটা দেখতে বাজে লাগে এবং আনপ্রফেশনাল মনে হয়।


স্ট্রাকচার্ড ডেটা বা জেসন স্কিমা হলো আপনার ওয়েবসাইটের পেছনে লুকানো একটা তথ্যের সেট যেটা গুগল এবং এআই টুলগুলো পড়তে পারে। এটা গুগলকে বলে দেয় আপনার কোম্পানি কী করে, কোথায় আছে, কী প্রোডাক্ট বিক্রি করে, কীভাবে যোগাযোগ করতে হবে। এই তথ্য সঠিকভাবে সেটআপ থাকলে গুগল, চ্যাটজিপিটি বা জেমিনির মতো এআই টুলগুলো আপনার কোম্পানি সম্পর্কে সঠিক তথ্য দিতে পারে।


মেটা পিক্সেল


এটা ফেসবুকএর একটা টুল যেটা আপনার ওয়েবসাইটে ইনস্টল করা থাকলে পরবর্তীতে ফেসবুক অ্যাড দিয়ে সেই বায়ারদের কাছে আবার পৌঁছানো যায় যারা আগে আপনার ওয়েবসাইট ভিজিট করেছে। রিটার্গেটিং এর জন্য এটা অত্যন্ত কার্যকর।


এই সেটআপগুলো একবার করা থাকলে আপনার কোম্পানি গুগল এবং মেটার দুনিয়ায় একটা শক্ত অবস্থান তৈরি করে। বায়ার যখন আপনাকে খুঁজবে তখন শুধু ওয়েবসাইট না, সব জায়গায় আপনার উপস্থিতি দেখতে পাবে। এটাই বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরির দ্বিতীয় ধাপ।


-----


বিশ্বাসযোগ্যতা কিনতে পাওয়া যায় না, অর্জন করতে হয়


আন্তর্জাতিক বায়ার যখন কোনো নতুন সাপ্লায়ারের সাথে কাজ করার কথা ভাবে, তখন সে একটাই প্রশ্ন করে, এই কোম্পানি কি আগে কারো সাথে কাজ করেছে? তাদের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?


এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম হলো ভেরিফাইড রিভিউ এবং স্বীকৃতি।


ক্লাচ এবং গুডফার্মস


ক্লাচ এবং গুডফার্মস হলো বিশ্বের সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য বিজনেস রিভিউ প্ল্যাটফর্ম। এখানে রিভিউ দেওয়ার জন্য ক্লায়েন্টকে ভেরিফাই করতে হয়। ফলে এখানকার রিভিউগুলো ফেক না। আন্তর্জাতিক বায়ার এই প্ল্যাটফর্মগুলো চেনে এবং বিশ্বাস করে। আপনার ক্লাচ প্রোফাইলে ৫টা ভেরিফাইড রিভিউ থাকলে সেটা যেকোনো কথার চেয়ে বেশি কাজ করে।


গ্লোবাল-সোর্স, কম্পাস এবং ইউরোপ্যাজেস


এই তিনটা প্ল্যাটফর্ম আন্তর্জাতিক বায়ারদের কাছে অত্যন্ত পরিচিত, বিশেষ করে যারা এশিয়া থেকে প্রোডাক্ট সোর্স করেন। গ্লোবাল-সোর্স এ ভেরিফাইড সাপ্লায়ার হিসেবে লিস্টেড থাকলে বায়ার বুঝতে পারে এই কোম্পানি যাচাই করা এবং বিশ্বাসযোগ্য। কম্পাস এ প্রোফাইল থাকলে ইউরোপ এবং আমেরিকার বায়াররা সহজেই আপনার কোম্পানি খুঁজে পায়। ইউরোপ্যাজেস ইউরোপের বায়ারদের জন্য সবচেয়ে বড় বিজনেস ডিরেক্টরি।


এই প্ল্যাটফর্মগুলোতে উপস্থিতি থাকলে আপনার কোম্পানি শুধু একটা ওয়েবসাইট না, একটা ভেরিফাইড আন্তর্জাতিক সাপ্লায়ার হিসেবে পরিচিত হয়।


সব প্ল্যাটফর্মের রিভিউ এক জায়গায়


গুডফার্মস, ক্লাচ, গুগল, ফেসবুক — সব জায়গার রিভিউ আপনার ওয়েবসাইটে একটা সেকশনে দেখানো উচিত। এটা বায়ারকে বোঝায় যে শুধু এক জায়গায় না, সব জায়গায় আপনার সম্পর্কে পজিটিভ কথা আছে। এই সেকশনটা ওয়েবসাইটের সবচেয়ে শক্তিশালী অংশগুলোর একটা।


সার্টিফিকেশন


ISO, SA8000, BGMEA বা BLA এর মতো স্থানীয় অ্যাক্রেডিটেশন — এগুলো আপনার ওয়েবসাইটে দেখানো উচিত। আন্তর্জাতিক বায়ার এই সার্টিফিকেটগুলো নাও চিনতে পারে, কিন্তু দেখলে বোঝে যে এই কোম্পানি কোনো না কোনো অথরিটি দ্বারা স্বীকৃত। এটা একটা শক্তিশালী ট্রাস্ট সিগনাল।


ট্রাস্টপাইলট


ট্রাস্টপাইলট আন্তর্জাতিক বায়ারদের কাছে অত্যন্ত পরিচিত একটা প্ল্যাটফর্ম। বিশেষ করে ইউরোপ এবং আমেরিকার বায়াররা কোনো কোম্পানির সাথে ডিল করার আগে ট্রাস্টপাইলট চেক করে। এখানে একটা ভেরিফাইড প্রোফাইল এবং কিছু রিভিউ থাকলে বায়ারের মনে যে সন্দেহ থাকে সেটা অনেকটাই কমে যায়।


বিশ্বাসযোগ্যতা রাতারাতি তৈরি হয় না। কিন্তু শুরু করতে হয় কোনো একদিন। প্রথম ক্লায়েন্টের কাছ থেকে একটা রিভিউ নিন। Clutch এ প্রোফাইল তৈরি করুন। Global Sources এ লিস্ট করুন। এই ছোট ছোট পদক্ষেপগুলো সময়ের সাথে সাথে একটা শক্তিশালী অনলাইন রেপুটেশন তৈরি করে যেটা আপনার হয়ে বায়ারকে কনভিন্স করতে থাকে।


-----


বায়ার যোগাযোগ করতে চায়, কিন্তু আপনি কি সেটা সহজ করে দিচ্ছেন?


একটু চিন্তা করুন। একজন আমেরিকান বায়ার দিনে হয়তো ১০ থেকে ১৫টা সাপ্লায়ারের ওয়েবসাইট ভিজিট করে। সে ক্লান্ত। সময় কম। সে শুধু একটাই চায়, দ্রুত এবং সহজে যোগাযোগ করতে।


এই মুহূর্তে আপনার কন্টাক্ট ফর্মে যদি ১৫টা ফিল্ড থাকে এবং সব কিছু টাইপ করতে হয়, সে ফর্মটা পূরণ করবে না। চলে যাবে।


রিসার্চ বলছে কন্টাক্ট ফর্মে প্রতিটা এক্সট্রা ফিল্ডে ১০ থেকে ২০ শতাংশ কনভার্শন কমে যায়। মানে আপনি যত বেশি তথ্য চাইবেন, তত কম বায়ার আপনাকে কন্টাক্ট করবে।


কিন্তু সমাধানটা শুধু ফিল্ড কমানো না। সমাধানটা হলো ফর্মটাকে একটা কথোপকথনের মতো বানানো।


উদাহরণ হিসেবে বলা যাক। প্রথমে বায়ারকে জিজ্ঞেস করুন তার কী দরকার , একটা ড্রপডাউন দিন: জুট প্রোডাক্ট, লেদার প্রোডাক্ট, গার্মেন্টস, অন্য কিছু। সে জুট প্রোডাক্ট সিলেক্ট করলে পরের স্টেপে শুধু জুট রিলেটেড অপশনগুলো দেখাবে। সে কত পরিমাণ অর্ডার করতে চায় সেটার জন্য একটা মাল্টিসিলেক্ট দিন: স্যাম্পল অর্ডার, স্মল ব্যাচ, বাল্ক।


এভাবে প্রতিটা স্টেপে শুধু রিলেভেন্ট প্রশ্ন আসে। বায়ার কখনো মনে করছে না যে অনেক কিছু পূরণ করতে হচ্ছে, কারণ বেশিরভাগ উত্তর এক ক্লিকে দেওয়া যাচ্ছে। শুধু নাম আর ইমেইল টাইপ করতে হচ্ছে, বাকি সব ক্লিক।


এটাকে বলে কন্ডিশনাল ফর্ম বা প্রোগ্রেসিভ ডিসক্লোজার। এই পদ্ধতিতে আপনি ১৫টা ফিল্ডের তথ্য সংগ্রহ করতে পারছেন কিন্তু বায়ারের কাছে পুরো অভিজ্ঞতাটা smooth এবং সহজ মনে হচ্ছে।


হোয়াটসঅ্যাপ বাটন


আন্তর্জাতিক বায়ারদের একটা বড় অংশ হোয়াটসঅ্যাপ এ কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। ওয়েবসাইটে একটা হোয়াটসঅ্যাপবাটন থাকলে বায়ার এক ক্লিকে সরাসরি আপনার সাথে চ্যাট শুরু করতে পারে। এটা ফর্ম পূরণ করার চেয়ে অনেক বেশি সহজ এবং স্মোথ।


বিজনেস ইমেইল


আপনার ইমেইল অ্যাড্রেস যদি জিমেইল হয়, বায়ারের মনে সাথে সাথে একটা প্রশ্ন আসে, এটা কি আসলেই একটা প্রফেশনাল কোম্পানি? আপনার ডোমেইনের নামে ইমেইল অ্যাড্রেস থাকা উচিত, যেমন [email protected]। ছোট একটা বিষয় কিন্তু বায়ারের কাছে এটা একটা বড় ট্রাস্ট সিগনাল।


অটোমেটিক রেসপন্স


বায়ার ফর্ম সাবমিট করার সাথে সাথে একটা অটোমেটিক ইমেইল যাওয়া উচিত “আমরা আপনার মেসেজ পেয়েছি এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যোগাযোগ করব।” এটা বায়ারকে নিশ্চিত করে যে তার মেসেজটা পৌঁছেছে এবং কেউ দেখবে। এই ছোট্ট কাজটা বায়ারের মনে একটা পজিটিভ impression তৈরি করে।


কেলেন্ডলি বা মিটিং লিংক


অনেক আন্তর্জাতিক বায়ার সরাসরি একটা মিটিং বুক করতে চায়। ওয়েবসাইটে একটা কেলেন্ডলি লিংক থাকলে বায়ার নিজেই তার সুবিধামতো সময়ে একটা কল বুক করতে পারে। এতে করে আপনার এবং বায়ার দুইজনের সময় বাঁচে এবং প্রথম কথোপকথনটা আরো productive হয়।


যোগাযোগের প্রতিটা বাধা কমানো মানে বায়ার পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ানো। আপনার প্রোডাক্ট দেখে বায়ার আগ্রহী হয়েছে , এখন শুধু দরকার তাকে সহজে পরের ধাপে নিয়ে যাওয়া।


-----


এই আর্টিকেলে যা যা বললাম সেগুলো পড়ে হয়তো মনে হচ্ছে অনেক কাজ। ডিজাইন সিস্টেম, সার্ভার, গুগল ইন্টিগ্রেশন, ভেরিফাইড প্রোফাইল, কন্ডিশনাল ফর্ম , একসাথে সব শুনলে একটু বেশি মনে হওয়াটা স্বাভাবিক।


কিন্তু বাস্তবতা হলো এই কাজগুলো একবার ঠিকমতো করা হলে বছরের পর বছর কাজ করে। বায়ার আসে, ওয়েবসাইট দেখে, বিশ্বাস করে, যোগাযোগ করে। পুরো প্রক্রিয়াটা নিজে থেকেই চলতে থাকে।


আপনি যদি নিজেই শুরু করতে চান তাহলে এই আর্টিকেলের প্রতিটা সেকশন একটা চেকলিস্ট হিসেবে ব্যবহার করুন। একটা একটা করে ঠিক করুন। বর্তমান সময়ে এগুলো ঠিক করার জন্য রিসোর্স আপনি কোথাও না কোথাও পেয়ে যাবেন।


এরপরও যদি মনে হয় কারো সাহায্য দরকার আমরা আছি। আমরা থার্ড ব্রেকেট - ম্যানচেস্টার ভিত্তিক একটা ওয়েব ডিজাইন এবং ব্র্যান্ডিং এজেন্সি।

ডিজাইনরাশ এ আমরা ম্যানচেস্টারের #১ ওয়েব ডিজাইন এজেন্সি হিসেবে স্বীকৃত।



আমরা বিশ্বাস করি বাংলাদেশের এক্সপোর্ট ব্যবসার সত্যিকারের সম্ভাবনা আছে। শুধু দরকার সঠিক ডিজিটাল উপস্থিতি। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি প্রথম ১০টি যোগ্য এক্সপোর্ট ব্যবসার ওয়েবসাইট সম্পূর্ণ বিনামূল্যে তৈরি করে দেব। আগ্রহী হলে নিচের লিংক এ ক্লিক করে একটা কলব্যাক রিকুয়েস্ট করে ফেলুন এখনই । সঠিক সময়ে আমাদের টিম আপনার সাথে যোগাযোগ করবে ।



কলব্যাক রিকুয়েস্ট করুন