ধরুন আপনার একটা ব্যবসা আছে। হয়তো গার্মেন্টস, হয়তো ফার্নিচার, হয়তো একটা রেস্তোরাঁ, হয়তো কোনো সফটওয়্যার কোম্পানি। আপনি বছরের পর বছর ধরে ব্যবসাটা চালাচ্ছেন। পরিচিতদের মধ্যে নামও আছে।
কিন্তু একটু থামুন এবং নিজেকে একটা প্রশ্ন করুন।
আপনার ব্যবসার নাম গুগলে সার্চ করলে কী দেখায়?
যদি উত্তর হয় “কিছুই না” অথবা “শুধু একটা পুরনো ফেসবুক পেজ” — তাহলে আপনার ব্যবসা ইন্টারনেটের দুনিয়ায় আসলে নেই। আর এই একটা কারণেই প্রতিদিন আপনার কাছে আসতে পারত এমন অনেক কাস্টমার অন্য কারো কাছে চলে যাচ্ছে।
এই আর্টিকেলে আমরা দেখব কেন অনলাইন উপস্থিতি এখন আর অপশন না, এটা ব্যবসা টিকিয়ে রাখার শর্ত। এবং কোন কোন জায়গায় বাংলাদেশের বেশিরভাগ ব্যবসা পিছিয়ে আছে এবং সেটা কিভাবে ঠিক করা যায়।
মানুষ এখন কিভাবে ব্যবসা খোঁজে?
দশ বছর আগে কাউকে কোনো পণ্য বা সেবার দরকার হলে সে পরিচিতদের জিজ্ঞেস করত। এলাকায় ঘুরত। পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেখত।
এখন সে গুগলে সার্চ করে।
বাংলাদেশে এই মুহূর্তে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১৩ কোটিরও বেশি। এই মানুষগুলো প্রতিদিন গুগল, ফেসবুক, ইউটিউবে সময় কাটাচ্ছে। কোনো পণ্য কিনতে চাইলে, কোনো সার্ভিস নিতে চাইলে, কোনো রেস্তোরাঁয় যেতে চাইলে — প্রথম কাজ হলো অনলাইনে খোঁজা।
যেটা গুগলে নেই, সেটা দুনিয়ায় নেই।
এটা শুধু একটা কথা না। এটা এখনকার বাস্তবতা।
আপনার প্রতিযোগী যদি অনলাইনে থাকে আর আপনি না থাকেন — সে কাস্টমার পাচ্ছে, আপনি পাচ্ছেন না। সহজ হিসাব।
শুধু ফেসবুক পেজ থাকলেই কি যথেষ্ট?
এই প্রশ্নটা প্রায় সবার মনে আসে। অনেকেই মনে করেন ফেসবুকে একটা পেজ থাকলেই অনলাইনে “আছি”।
কিন্তু বাস্তবতাটা একটু আলাদা।
ফেসবুক পেজ একটা ভাড়া বাড়ির মতো। আপনি সেখানে থাকতে পারছেন, কিন্তু বাড়ির মালিক ফেসবুক। যেকোনো সময় অ্যালগরিদম পরিবর্তন হলে আপনার পোস্ট কেউ দেখবে না। পেজ রিস্ট্রিক্টেড হলে আপনার সব কিছু শেষ। আর সবচেয়ে বড় কথা, ফেসবুক পেজ গুগলে সার্চ করলে ভালোভাবে আসে না।
ফেসবুক পেজ গুগল সার্চে দেখায় না বা খুব কম দেখায়। কাস্টমারের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা কম তৈরি হয়। আপনার কনটেন্টের উপর আপনার নিয়ন্ত্রণ নেই। যেকোনো সময় অ্যাকাউন্ট বন্ধ হতে পারে।
ফেসবুক পেজ দরকার, কিন্তু সেটা একমাত্র সমাধান না। ফেসবুক হবে আপনার একটা চ্যানেল, পুরো অনলাইন উপস্থিতি না।
অনলাইনে না থাকলে আসলে কী হারাচ্ছেন?
এটা বোঝার জন্য একটু অন্যভাবে চিন্তা করুন।
ধরুন আপনি ঢাকায় একটা ইন্টেরিয়র ডিজাইন ফার্ম চালান। কেউ গুগলে সার্চ করল “ঢাকায় ভালো ইন্টেরিয়র ডিজাইন কোম্পানি”। রেজাল্টে আপনার প্রতিযোগীর ওয়েবসাইট এলো, আপনার কিছু নেই। সেই সম্ভাব্য কাস্টমার সরাসরি আপনার প্রতিযোগীর কাছে গেল।
এই ঘটনা প্রতিদিন ঘটছে। আপনি জানছেন না কারণ যারা চলে যাচ্ছে তারা আপনাকে বলছে না।
HIGHLIGHT: হিসাব করুন। মাসে যদি ১০০ জন মানুষ আপনার ধরনের সার্ভিস গুগলে খোঁজে এবং আপনি সেখানে না থাকেন, সেই ১০০ জন কাস্টমারই অন্য কারো কাছে যাচ্ছে।
প্রথম ধাপ: আপনার নিজের একটা ওয়েবসাইট
ওয়েবসাইট হলো আপনার ব্যবসার ডিজিটাল অফিস। এটা ২৪ ঘণ্টা ৭ দিন খোলা থাকে। ঘুমের মধ্যেও কাস্টমার আপনার সার্ভিস দেখতে পারে, যোগাযোগের তথ্য পেতে পারে, আপনার কাজের নমুনা দেখতে পারে।
কিন্তু শুধু ওয়েবসাইট থাকলেই হয় না। ওয়েবসাইটটা যদি ঠিকমতো না হয় তাহলে হিতে বিপরীত হতে পারে।
একটা ভালো ওয়েবসাইটে কী থাকতে হবে?
দ্রুত লোড হওয়া
গুগলের রিসার্চ বলছে একটা ওয়েবসাইট লোড হতে ৩ সেকেন্ডের বেশি লাগলে ৫৩% ভিজিটর চলে যায়। মোবাইলে এই সংখ্যা আরো বেশি। বাংলাদেশের বেশিরভাগ ওয়েবসাইট শেয়ার্ড হোস্টিংয়ে থাকে যেখানে হাজারো ওয়েবসাইট একই সার্ভার ভাগ করে। ফলে সাইট স্লো থাকে।
মোবাইলে ঠিকমতো দেখানো
বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের ৮০ শতাংশেরও বেশি মোবাইল থেকে ব্রাউজ করে। আপনার ওয়েবসাইট যদি মোবাইলে ভেঙে যায় বা দেখতে বাজে লাগে, সেই ভিজিটর সাথে সাথে চলে যাবে।
স্পষ্ট তথ্য
আপনি কী করেন, কোথায় আছেন, কিভাবে যোগাযোগ করতে হবে — এই তথ্যগুলো ওয়েবসাইটে ঢুকেই বোঝা যেতে হবে। কাস্টমারকে খুঁজতে দেওয়া যাবে না।
কাজের নমুনা বা পোর্টফোলিও
আপনি আগে কার জন্য কী করেছেন সেটা দেখতে পারলে নতুন কাস্টমারের বিশ্বাস তৈরি হয়।
TIP: pagespeed.web.dev এ গিয়ে আপনার ওয়েবসাইটের স্পিড স্কোর চেক করুন। একটা ভালো সাইটের স্কোর ৯০ এর উপরে থাকা উচিত।
দ্বিতীয় ধাপ: গুগলে আপনার কোম্পানির উপস্থিতি
ওয়েবসাইট থাকলেই গুগলে দেখায় না। গুগলে ভালোভাবে দেখাতে হলে কিছু নির্দিষ্ট কাজ করতে হয়।
গুগল বিজনেস প্রোফাইল
এটা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। কিন্তু এর গুরুত্ব অনেক বেশি।
গুগল বিজনেস প্রোফাইল ভেরিফাইড থাকলে কেউ আপনার কোম্পানির নাম বা আপনার ধরনের সার্ভিস গুগলে সার্চ করলে ডান পাশে একটা সুন্দর প্যানেল দেখা যায় — কোম্পানির নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর, ওয়েবসাইট, কাজের সময়, রিভিউ — সব কিছু এক জায়গায়। এটা না থাকলে আপনার ব্যবসা গুগলের কাছে “অদৃশ্য”।
“আমার কাছের রেস্তোরাঁ” বা “ঢাকায় ওয়েব ডিজাইন কোম্পানি” টাইপের লোকাল সার্চে আপনাকে দেখায়। গুগল ম্যাপে আপনার লোকেশন দেখায়। কাস্টমার সরাসরি গুগল থেকে রিভিউ দিতে পারে। এবং আপনার ব্যবসার বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ায়।
গুগল সার্চ কনসোল
এটা হলো গুগলের সাথে আপনার ওয়েবসাইটের সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যম। এটা সেটআপ না থাকলে গুগল আপনার ওয়েবসাইটের নতুন পেজ সময়মতো খুঁজে পায় না। কনটেন্ট যোগ করলেও গুগলে দেখাতে অনেক দেরি হয়।
গুগল অ্যানালিটিক্স
আপনার ওয়েবসাইটে কোথা থেকে কতজন আসছে, কোন পেজে বেশি সময় কাটাচ্ছে, কোথায় গিয়ে চলে যাচ্ছে — এই তথ্যগুলো না জানলে আপনি অন্ধের মতো ব্যবসা করছেন। গুগল অ্যানালিটিক্স এই তথ্যগুলো বিনামূল্যে দেয়।
NOTE: এই তিনটা সেটআপ — গুগল বিজনেস প্রোফাইল, সার্চ কনসোল এবং অ্যানালিটিক্স — প্রতিটাই বিনামূল্যে। কিন্তু বাংলাদেশের ৯০ শতাংশ ছোট ব্যবসার কোনোটাই ঠিকমতো সেটআপ নেই।
তৃতীয় ধাপ: ব্র্যান্ড যখন কথার চেয়ে জোরে কথা বলে
একটা সহজ প্রশ্ন করি।
দুইটা দোকান পাশাপাশি। একটার সাইনবোর্ড পরিষ্কার, লোগো সুন্দর, ভেতরটা গোছানো। আরেকটার সাইনবোর্ড রঙ উঠে গেছে, ভেতরে এলোমেলো। দুটো দোকানই একই পণ্য বেচে। আপনি কোথায় ঢুকবেন?
অনলাইনেও ঠিক এটাই হয়।
আপনার ওয়েবসাইট, লোগো, রং, ফন্ট — এগুলো মিলিয়ে আপনার ব্র্যান্ড। একজন সম্ভাব্য কাস্টমার আপনার ওয়েবসাইটে ঢুকে প্রথম কয়েক সেকেন্ডেই সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয় — এই কোম্পানি কি প্রফেশনাল? এদের সাথে কাজ করা কি নিরাপদ? এই সিদ্ধান্তটা আপনার প্রোডাক্ট দেখে হয় না। হয় আপনার ব্র্যান্ড দেখে।
ব্র্যান্ডিং মানে শুধু লোগো না
ব্র্যান্ডিং মানে হলো একটা সম্পূর্ণ ডিজাইন সিস্টেম — আপনার রং, ফন্ট, ছবির ধরন সব কিছু একটা নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলে। ওয়েবসাইটে যে রং, ফেসবুকে সেই রং, ভিজিটিং কার্ডে সেই রং, হোয়াটসঅ্যাপে প্রোফাইল ছবি সেই রং। সব জায়গায় একই পরিচয়।
এই কনসিস্টেন্সি কাস্টমারের মনে একটা বিশ্বাস তৈরি করে যেটা কোনো কথা দিয়ে তৈরি করা সম্ভব না।
ইমেইল আপনার ব্র্যান্ডের অংশ
আপনার ইমেইল অ্যাড্রেস যদি জিমেইল হয় কাস্টমারের মনে সাথে সাথে একটা প্রশ্ন আসে — এটা কি আসলেই একটা প্রফেশনাল কোম্পানি?
আপনার ডোমেইনের নামে ইমেইল থাকা উচিত, যেমন [email protected]। ছোট একটা বিষয় কিন্তু বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য অনেক বড় পার্থক্য তৈরি করে।
চতুর্থ ধাপ: বিশ্বাসযোগ্যতা — কথা দিয়ে নয়, প্রমাণ দিয়ে
কাস্টমার যখন নতুন কোনো ব্যবসার সাথে কাজ করার কথা ভাবে, সে একটাই জিনিস জানতে চায় — আগে কেউ এদের সাথে কাজ করে কি অভিজ্ঞতা পেয়েছে?
এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম হলো ভেরিফাইড রিভিউ।
গুগল রিভিউ
কাস্টমার আপনার গুগল বিজনেস প্রোফাইলে রিভিউ দিতে পারে। এই রিভিউগুলো গুগল সার্চে সরাসরি দেখায়। আপনার ব্যবসার নাম সার্চ করলেই কতটা স্টার রেটিং আছে সেটা দেখা যায়। গুগল লোকাল সার্চে বেশি রিভিউ থাকলে র্যাংকিং ভালো হয়, নতুন কাস্টমারের বিশ্বাস তৈরি হয় এবং আপনার সার্ভিসের মান সম্পর্কে ফিডব্যাক পাওয়া যায়।
ফেসবুক রিভিউ এবং রেকমেন্ডেশন
বাংলাদেশে ফেসবুক রিভিউ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক মানুষ ফেসবুকে কোনো পেজের রিভিউ দেখে সিদ্ধান্ত নেয়।
HIGHLIGHT: প্রতিটা সফল কাজ শেষে কাস্টমারকে একটা রিভিউ দেওয়ার অনুরোধ করুন। বেশিরভাগ সময় কাস্টমার দিতে চায়, কিন্তু কেউ মনে করিয়ে না দিলে দেয় না।
সার্টিফিকেশন এবং স্বীকৃতি
আপনার ব্যবসার সাথে সম্পর্কিত কোনো সার্টিফিকেট, অ্যাওয়ার্ড, বা স্বীকৃতি থাকলে সেটা ওয়েবসাইটে দেখানো উচিত। এটা কাস্টমারকে বলে — এই ব্যবসা কোনো না কোনো কর্তৃপক্ষ কর্তৃক স্বীকৃত।
পঞ্চম ধাপ: কাস্টমার যোগাযোগ করতে চায়, আপনি কি সহজ করে দিচ্ছেন?
একজন সম্ভাব্য কাস্টমার আপনার ওয়েবসাইটে এলো, পছন্দ হলো, যোগাযোগ করতে চাইল। এই মুহূর্তে যদি প্রক্রিয়াটা জটিল হয়, সে চলে যাবে।
রিসার্চ বলছে কন্টাক্ট ফর্মে প্রতিটা এক্সট্রা ফিল্ডে ১০ থেকে ২০ শতাংশ কনভার্শন কমে যায়।
সহজ কন্টাক্ট ফর্ম
ফর্মে যত কম তথ্য চাইবেন, তত বেশি মানুষ পূরণ করবে। শুধু নাম, ফোন নম্বর বা ইমেইল এবং কী দরকার সেটা — এটুকুই যথেষ্ট শুরুর জন্য।
হোয়াটসঅ্যাপ বাটন
বাংলাদেশে হোয়াটসঅ্যাপ এখন অত্যন্ত জনপ্রিয়। ওয়েবসাইটে একটা হোয়াটসঅ্যাপ বাটন থাকলে কাস্টমার এক ক্লিকে সরাসরি চ্যাট শুরু করতে পারে। এটা ফর্ম পূরণের চেয়ে অনেক বেশি সহজ এবং বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অনেক বেশি কার্যকর।
দ্রুত সাড়া দেওয়া
কাস্টমার মেসেজ করার পর যত দ্রুত রেসপন্স পাবে, ডিল হওয়ার সম্ভাবনা তত বেশি। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রেসপন্স করার চেষ্টা করুন। অটোমেটিক রিপ্লাই সেট করুন যাতে কাস্টমার জানতে পারে তার মেসেজ পৌঁছেছে।
ষষ্ঠ ধাপ: কনটেন্ট — যেটা আপনাকে বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়
আপনার ব্যবসার ক্ষেত্রে আপনার চেয়ে বেশি জানার কথা কারো না। এই জ্ঞানটা শেয়ার করুন। ব্লগ পোস্ট, ভিডিও, ইনফোগ্রাফিক — যে মাধ্যমেই হোক।
গুগল কনটেন্ট পছন্দ করে, নিয়মিত ভালো কনটেন্ট মানে গুগলে ভালো র্যাংকিং। কাস্টমার আপনাকে বিশেষজ্ঞ হিসেবে দেখতে শুরু করে। এবং বিনামূল্যে ট্র্যাফিক আসে।
উদাহরণ: আপনি যদি একটা আইনি পরামর্শ ফার্ম চালান তাহলে “ব্যবসা শুরু করতে কী কী কাগজপত্র দরকার” টাইপের আর্টিকেল লিখুন। যারা এই বিষয়ে গুগলে সার্চ করছে তারা আপনার সাইটে আসবে। সেখান থেকেই সম্পর্ক শুরু হবে।
TIP: প্রতি মাসে একটা করে ব্লগ পোস্ট লেখার চেষ্টা করুন। বিষয় হোক আপনার কাস্টমারদের সাধারণ সমস্যা এবং তার সমাধান।
সোশ্যাল মিডিয়া: সব জায়গায় থাকাটা জরুরি না, সঠিক জায়গায় থাকাটা জরুরি
অনেকেই মনে করেন ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব, লিংকডইন — সব জায়গায় থাকতে হবে। এটা ভুল ধারণা।
আপনার ব্যবসার ধরন অনুযায়ী সঠিক প্ল্যাটফর্ম বেছে নিন।
ফেসবুক — বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় প্ল্যাটফর্ম। প্রায় সব ধরনের ব্যবসার জন্য প্রাসঙ্গিক। লোকাল কাস্টমার টার্গেট করার জন্য সেরা।
ইনস্টাগ্রাম — ভিজ্যুয়াল ব্যবসার জন্য আদর্শ। ফ্যাশন, ফুড, ইন্টেরিয়র ডিজাইন, ফটোগ্রাফি।
ইউটিউব — দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে শক্তিশালী। একটা ভালো ভিডিও বছরের পর বছর ট্র্যাফিক আনতে পারে।
লিংকডইন — B2B ব্যবসার জন্য, যেখানে আপনার কাস্টমার অন্য ব্যবসা বা পেশাদার মানুষ।
NOTE: দুইটা প্ল্যাটফর্মে ভালোভাবে থাকুন বরং পাঁচটা প্ল্যাটফর্মে মাঝারিভাবে। নিয়মিত এবং মানসম্পন্ন কনটেন্টই গুরুত্বপূর্ণ, সংখ্যা না।
সব কিছু একসাথে: একটা চেকলিস্ট
এতক্ষণ অনেক কিছু বললাম। একবারে সব করতে না পারলে চিন্তা নেই। একটা একটা করে শুরু করুন।
এখনই করুন (বিনামূল্যে)
গুগল বিজনেস প্রোফাইল তৈরি এবং ভেরিফাই করুন। বিদ্যমান কাস্টমারদের কাছে গুগল রিভিউ চান। ফেসবুক পেজ পূর্ণাঙ্গ তথ্য দিয়ে আপডেট করুন।
এক মাসের মধ্যে করুন
প্রফেশনাল ওয়েবসাইট তৈরি করুন। গুগল সার্চ কনসোল এবং অ্যানালিটিক্স সেটআপ করুন। ডোমেইন নামে বিজনেস ইমেইল তৈরি করুন।
তিন মাসের মধ্যে করুন
নিয়মিত কনটেন্ট তৈরি শুরু করুন। ফেসবুক বিজ্ঞাপন ছোট বাজেটে পরীক্ষা করুন। ওয়েবসাইটে হোয়াটসঅ্যাপ বাটন যোগ করুন।
শেষ কথা
অনলাইন উপস্থিতি তৈরি করা একটা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ। রাতারাতি ফলাফল আসবে না। কিন্তু একবার ঠিকমতো করা হলে এটা বছরের পর বছর আপনার হয়ে কাজ করতে থাকে।
আপনার প্রতিযোগী যদি এরই মধ্যে অনলাইনে ভালোভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়, তাহলে পরে ধরা অনেক কঠিন হবে। সঠিক সময় হলো এখন।
ছোট শুরু করুন। কিন্তু শুরু করুন।
আমরা থার্ড ব্র্যাকেট — ম্যানচেস্টার ভিত্তিক একটা ওয়েব ডিজাইন এবং ব্র্যান্ডিং এজেন্সি যারা বাংলাদেশের ব্যবসাগুলোকে ডিজিটালি শক্তিশালী করতে কাজ করি। ডিজাইনরাশে আমরা ম্যানচেস্টারের #১ ওয়েব ডিজাইন এজেন্সি হিসেবে স্বীকৃত।
আপনার ব্যবসার ডিজিটাল উপস্থিতি নিয়ে কথা বলতে চাইলে একটা কলব্যাক রিকুয়েস্ট করুন — আমাদের টিম আপনার সাথে যোগাযোগ করবে।
কলব্যাক রিকুয়েস্ট করুন

